স্টাফ রিপোর্টার ।। ঈশ্বরদীতে অটোরিকশা থামিয়ে রাশিয়ান নাগরিকদের সঙ্গে থাকা তিন বাঙালি তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি টক অবদা ঈশ্বরদীতে পরিনত হয়েছে। বিশেষ করে ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর অপহৃত ওই তিন তরুণীকে অপহরণকারী কর্তৃক ছেড়ে দেয়া এবং অপহৃত তিন তরুণীর থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয়ার বিষয়টি আরও বেশী বিস্ময়কর বলে মনে হচ্ছে ।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার আইকে রোডের মানিকনগর ‘ল্যাংড়ার দোকান’ মোড়ে ঘটে যাওয়া এঘটনাটি নানাধরনের আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শি সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন রাশিয়ান নাগরিক গ্রীনসিটি থেকে তিন তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে একটি অটো রিকশায় ঈশ্বরদীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উল্লেখিত স্থানে পৌঁছালে হঠাৎ একদল যুবক অটো রিকশার গতিরোধ করে থামাতে বাধ্য করে। অটোরিকশা থামার সাথেসাথে অপহরণকারীরা জোরপূর্বক তিন তরুণীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং দ্রুত একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
আকস্মিক এঘটনায় এলাকাজুড়ে তাৎক্ষনিক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই অপহরণকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এদিকে অপহরণের প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই তিন তরুণী ঈশ্বরদী থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশকে জানায়, তাদের কোনো ক্ষতি করা হয়নি। অপহরণকারীরা তাদের ছেড়ে দিয়েছে এবং মোবাইল ফোনগুলোও ফেরত দিয়েছে। এ ঘটনায় তারা কোনো অভিযোগ দাখিল করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে।
তাৎক্ষণিক ভাবে অপহরণকারী যুবকদের পরিচয় কিংবা অপহৃত তরুণীদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে থাকা রাশিয়ান নাগরিকদের ভূমিকা সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, প্রকাশ্যে সড়কের ওপর এমন দুঃসাহসিক ঘটনার পর এলাকায় চরম উদ্বেগ উত্তেজনা ও আতংক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আবার অনেকেই প্রশ্ন করেছেন এইসব তরুণীরাইবা কারা? রাশিয়ানদের সাথে তাদের কি সম্পর্ক?
এব্যাপারে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশাদুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার কিছু সময় পর তিন তরুণী নিজেরাই থানায় আসে। তারা জানায়, তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং মোবাইল ফোন ফেরত পেয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।