আগামীকাল সকাল ১০ টায় ঈশ্বরদীতে অনুষ্ঠিতব্য ‘লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা-২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ (কুল ময়েজ)। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও লিচুর মৌসুমকে কেন্দ্র করে ‘লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা’র আয়োজন করছে। দেশের কৃষি ও বাণিজ্য খাতের উন্নয়নে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক আব্দুল জলিল মন্ডল (লিচু কিতাব) জানান, ঈশ্বরদীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়। চলতি মৌসুমে ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, লিচুর পাশাপাশি ঈশ্বরদীতে বিভিন্ন ধরনের সবজি, আম, কাঁঠাল, জাম, বাঙ্গি ও কলার ব্যাপক আবাদ রয়েছে। এছাড়া ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, মাল্টা ও আঙুরের মতো উচ্চমূল্যের বিদেশি ফলও বর্তমানে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে।
আব্দুল জলিল মন্ডল আরও বলেন, কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে বিপুল পরিমাণ ফল ও ফসল উৎপাদন করলেও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে এখনও বঞ্চিত। এ কারণে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে কৃষকদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হবে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু করা, লিচু গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, লিচু প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ।
কৃষক নেতারা মনে করেন, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে এবং মৌসুমভিত্তিক উৎপাদিত কৃষিপণ্য থেকে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব হবে।
এছাড়া তারা উল্লেখ করেন, পাঠ্যপুস্তকে দিনাজপুরকে লিচুর জন্য বিখ্যাত জেলা হিসেবে তুলে ধরা হলেও বর্তমানে দেশের সর্বাধিক লিচু উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর অন্যতম ঈশ্বরদীর নাম সেখানে নেই। তাই পাঠ্যপুস্তকে ঈশ্বরদীকে লিচু উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হবে।