ঈশ্বরদীর মেয়ে স্বপ্না খাতুন রোজিনা (৩০)-এর রক্তাক্ত লাশ টাঙ্গাইলের একটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মে) সকালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের সল্পলাড়ু গ্রামের ধলেশ্বরী নদীর পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে তার লাশটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রথমে লাশটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে সিআইডির সহায়তায় আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত নারীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। নিহত স্বপ্না খাতুন রোজিনা ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের আমছের আলী সরদারের মেয়ে।
দেলদুয়ার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বাবুল হোসেন জানান, সকালে স্থানীয় কৃষকরা ধানের জমিতে কাজ করতে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় এক নারীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, “লাশ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্তে জটিলতা ছিল। পরে সিআইডির সহযোগিতায় আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণ করে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর ঈশ্বরদী থানাকে বিষয়টি জানানো হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।”
নিহতের ভাই আব্দুল মমিন জানান, স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে রোজিনা ঢাকার সদরঘাট এলাকায় একটি মেসে রান্নার কাজ করতেন। মঙ্গলবার রাত থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ বাড়িতে এসে টাঙ্গাইলে তার বোনের লাশ উদ্ধারের খবর জানায়।
তিনি বলেন, “গতকাল বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল থেকে বোনের লাশ নিয়ে এসে রাতে দাফন করেছি। আমার বোনের দশ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। সে একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে।”
এদিকে, এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-০৯/২০২৬, তারিখ ০৭/০৫/২০২৬।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। দেলদুয়ার থানা পুলিশের মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। পরে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যদের অবহিত করা হয়। ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।”