২০০১ সালে ধানের শীষের বিরোধিতাকারী ২০২৬-এর ধানের শীষের প্রার্থী, তাতে আমি প্রতিহিংসা পোষণ করিনা——————————-
ঈশ্বরদীতে বেগম খালেদা জিয়ার দোয়ার অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার
————————
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি।।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য, পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদার বলেছেন, কুড়াল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে যারা ২০০১ সালে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরোধিতা করেছিল, আজ তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন। হিসাব অনুযায়ী আমারও আজ কুড়াল প্রতীক নিয়ে তাদের বিরোধীতা করা উচিত কিন্তু আমি তা করবো না। কারণ আমি প্রতিহিংসা পোষণ করিনা।
তিনি বলেন, সেসময় আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে হাবিবুর রহমান হাবিব বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে কুড়াল প্রতীক নিয়ে ধানের শীষের বিরোধিতা করে পাবনা-৪ আসনে বিএনপির নিশ্চিত বিজয়কে ঠেকিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুকে বিজয়ী করেছিলেন।
আজ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাবিবুর রহমান হাবিব বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। আমি প্রতিহিংসা করতে চাইনা। শুধু বলতে চাই হাবিবুর রহমান হাবিব সহ তার অনুসারীদের ঈমানী শক্তি ফিরে আসুক।
সোমবার ৫ জানুয়ারি’২৬ দুপুরে ঈশ্বরদীর পাকশী পাঁচ শহীদের মোড় এলাকায় প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিরাজুল ইসলাম সরদার এসব কথা বলেন।
সিরাজুল ইসলাম সরদার আরও বলেন, সেই নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চাইনি তবুও বেগম খালেদা জিয়া আমাকে মনোনয়ন দিয়ে ধানের শীষের প্রতীক তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু হাবিবুর রহমান হাবিব কুড়াল প্রতীক নিয়ে আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে অবস্থান নিয়ে নিশ্চিত বিজয়কে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য করেছিলেন। আজকে আমার সুযোগ হয়েছে তার বিরোধিতা করা কিন্তু আমি তা করবো না।
পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবীর আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন রেলশ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি আহসান হাবিব, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাকিউল ইসলাম তপন, বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুস সোবহান, আক্তার মল্লিক, রুহুল আমিন বাবলু, ফজলুর রহমান মাস্টার, হিরোক সরদার, শ্রমিকদল নেতা সোহেল রানা, মহিলা দলের সভাপতি সেলিনা ইসলাম, ইউপি সদস্য ফাতেমা আক্তার পলি, যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নির্বাহী সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার আসন্ন সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং বাছাইয়ে টিকে গিয়েছেন।