লিচুর রাজধানী ঈশ্বরদীর বাজারে উঠেছে অপরিপক্ক লিচু, ক্রেতারা হতাশ
———–
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি।। লিচুর রাজধানী বলে খ্যাত ঈশ্বরদীতে অসময়ে অপরিপক্ক লিচু বিক্রি শুরু হয়েছে। ঈশ্বরদীর রসালো মিষ্টি লিচু সারা দেশেই সুপরিচিত এবং প্রশংসীত। কিন্তু সেই পরিচিতি ও খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে কতিপয় বাগানমালিক ও ব্যবসায়ী আগাম লাভের আশায় অপরিপক্ক লিচু বাজারে বিক্রি করছেন। ঈশ্বরদী শহর সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে এখন কাঁচা ও স্বাদহীন লিচুর আমদানি অপ্রত্যাশিত ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝিতে পরিপক্ক ও সুস্বাদু লিচু বাজারে ওঠার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময় আসার আগেই বৈশাখেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে অপরিপক্ক স্বাদহীন লিচু। এগুলোর বেশিরভাগই এখনো পুরোপুরি পাকা নয় বিধায় স্বাদে টক এবং গুণগত মান কম। তা সত্ত্বেও মৌসুমের নতুন ফল হিসেবে ক্রেতারা তুলনামূলক বেশি দাম দিয়েই কিনছেন।
লিচু চাষীদের একটি অংশ জানিয়েছেন, চলমান তীব্র গরমে গাছ থেকে লিচু ঝরে পড়ছে। তাই ক্ষতি এড়াতে তারা আগেভাগেই লিচু সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন। তবে কৃষি বিভাগের মতে, এ ধরনের ঝরে পড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই পড়ে। প্রকৃতপক্ষে মোজাফফর বা আঁটি জাতের লিচু কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বাজারে তোলা হচ্ছে, যা এখনো পরিপক্ক হয়নি। এতে ভোক্তারা লিচুর আসল স্বাদ ও পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চলতি মৌসুমে বাজারে নতুন ফল হিসেবে লিচুর দামও তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে ১০০ পিস দেশি লিচুর এক ঝোপা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা অনেক সময় ক্যারেটে লিচু সাজিয়ে আংশিক প্রদর্শন করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। ঈশ্বরদী পৌর এলাকার বাজার সমূহ সহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের আরামবাড়িয়া, আওতাপাড়া, দাশুড়িয়া, শিমুলতলা, পাকশী, জিগাতলায় ও বিভিন্ন স্থানে এই অপরিপক্ক, স্বাদহীন টক লিচুই বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত প্রতি ‘শ।
আবার সময়ের পরিবর্তনে দামের তারতম্যও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আরামবাড়িয়া বাজারে সকালবেলায় যে লিচু ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই একই লিচু দুপুরে পৌর বাজারে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
লিচু ক্রেতা মোন্তাজ আলী ও সাংবাদিক মুনমুন আক্তার জানিয়েছেন, মৌসুমের নয়া ফল হিসেবে আকৃষ্ট হয়েই পরিবারের আবদার মেটাতে তারা লিচু কিনেছিলেন, তবে ক্রয়কৃত লিচুর বেশিরভাগই কাঁচা হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত স্বাদ পাওয়া যায়নি। ঈশ্বরদী শহরের দরিনারিচা পশ্চিমপাড়ার কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস ও শিল্পী খাতুনও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। এদিকে চিকিৎসকরা অপরিপক্ক লিচু খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ক্রেতাদের।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভালো মান ও স্বাদ নিশ্চিত করতে মোজাফফর জাতের লিচু আরও অন্তত ১০-১৫ দিন পর সংগ্রহ করা উচিত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, এখনই বাজারজাত করলে লিচুর ওজন ও মিষ্টতা দুটোই কম থাকবে অর্থাৎ আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবেনা।
চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। দেশি আঁটি ছাড়াও বোম্বাই, চিলি বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু উৎপাদিত হচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মমিন জানিয়েছেন, গাছে এখনো পর্যাপ্ত গুটি রয়েছে এবং ফলন ভালো হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। লিচুর প্রকৃত স্বাদ ও পুষ্টিগুণ পেতে হলে অবশ্যই পরিপক্ক হওয়ার পরই লিচু গাছ থেকে সংগ্রহ করে বাজারজাত করা উচিত।
প্রেরকঃ এস এম রাজা
ঈশ্বরদী, পাবনা।