ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে চলছে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলনের মহোৎসব।।
অভিযানিক দল পৌঁছানোর আগেই সটকে পড়লো বালুখেকোর দল
———
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি।।
ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে চলছে দীর্ঘদিন থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হলেও প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য কোন ভূমিকা এপর্যন্ত লক্ষ্য করা যায়নি। কূল রক্ষা করার জন্য সোমবার (১৩ জুলাই’২৬) রাতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যৌথ অভিযানে গেলে সেখানে সবই ফাঁকা দেখতে পায়। প্রশাসনের পৌঁছানোর আগেই বিশেষ মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে বালু উত্তোলন চক্রের সকলেই ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। এ যেনো ছেড়ে দিয়ে তেড়ে ধরার মতো অবস্থা।
ঈশ্বরদীর সাঁড়াঘাট থেকে লক্ষ্মিকুন্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় পদ্মার চরে দীর্ঘদিন থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করছে একটি শক্তিশালী চক্র। অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন বাহিনীর যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হলেও আশানুরূপ কোন ফল পাওয়া যায়নি।
অভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিশেষ মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে তারা সটকে পড়ে। আবার অভিযানিক দল সেখান থেকে চলে আসার পরেই বালু উত্তোলন শুরু করে। এবারের অভিযানের ফলও ঠিক তাই হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযানের খবর পেয়েই অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি ফেলে দ্রুত সটকে পড়ে বালু উত্তোলনকারীরা। যেকারণে কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে ফেলে যাওয়া সরঞ্জামাদি জব্দ এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে তারা দাবী করেন।
রূপপুর এলাকার পাকারমাথা, গেনা মার্কেট সংলগ্ন এলাকা এবং কালিতলায় তরিকুলের ইটভাটা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মদ শোয়ায়েব। সাথে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আসাদুজ্জামান সরকার, ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশাদুর রহমান সহ একদল পুলিশ ও আনসার সদস্য।
পদ্মার তীরবর্তী স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র অদৃশ্য শক্তিবলে পদ্মানদী থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে আসছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না৷ এব্যাপারে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।
বিজ্ঞজনেরা বলেন, পদ্মানদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীতীরবর্তী বিভিন্ন স্থাপনা অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এসকল বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখা ও এরসাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। এসকল দাবীর প্রতি সম্মান ও একাত্মতা ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আকষ্মিক অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। যারা এর সাথে জড়িত রয়েছে তাদের কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।