ঈশ্বরদীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড, মৃদু সৈত প্রবাহে হাড় কাঁপানো শীত, জনজীবন বিপর্যস্ত
ঈশ্বরদী(পাবনা) প্রতিনিধি।। আজ ৫ জানুয়ারী’২৬ ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে আজ সকাল ৯ টায় ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা ছিল মাত্র ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা বাংলাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এদিকে গত তিনদিন ধরে ঈশ্বরীর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্য প্রবাহ। তারওপর সূর্যের দেখা মেলেনি দুইদিন। অন্যদিকে কুয়াশায় আবৃত হচ্ছে ধরিত্রী।
নিম্ন বিত্ত থেকে উচ্চ বিত্ত সকলেই শীতে কাপছে থড়থড় করে। ভাসমান মানুষগুলো শীত বস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের নিম্ন বিত্ত ও মধ্য বিত্ত মানুষেরা সীমাহীন কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছে। দিনমজুর মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
এবছর বেসরকারী কোন প্রতিষ্ঠানকে শীতার্তদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে না।
সরকারীভাবে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে এপর্যন্ত মাত্র ৩ হাজার ৬ পিস কম্বল বিতরণ করা হয়েছে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে।যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। আরও শীত বস্ত্রের প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অফিস সূত্রে গত কয়দিনে যে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তা নিম্নরূপ। ৫ জানুয়ারী ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৪ জানুয়ারী তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৩ জানুয়ারী ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২ জানুয়ারী ৮দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১ জানুয়ারী ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন।
এমনিতেই শীতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা তার ওপর তাপমাত্রা আরও কমলে জনজীবনে একেবারেই অচলাবস্থা নেমে আসবে। হাটবাজারে লোকজনের উপস্থিতি একেবারেই কম। বেচাকেনা অস্বাভাবিক ভাবে কমে গেছে। সন্ধ্যার আগেই জন শূন্য হয়ে পড়ছে রাস্তা ঘাট। কুয়াশায় সবকিছু অন্ধকার। যানবাহন চলাচল করছে চরম ঝুঁকি নিয়ে। ঘটছে ছোট বড়ো দুর্ঘটনা। প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকেই, কারো ভাগ্যে জুটছে পঙ্গুত্ব বরণ।
সবমিলিয়ে বৈরী আবহাওয়ায় দুর্ভোগ ও জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
প্রেরকঃ এস এম রাজা, ঈশ্বরদী, পাবনা।