ঈশ্বরদীর জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন, খুনি গ্রেফতার
ঈশ্বরদী(পাবনা) প্রতিনিধি।। ২৪ ঘন্টার অক্লান্ত পরিশ্রমে পাবনার ঈশ্বরদীতে চাঞ্চল্যকর দাদি-নাতনিকে খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পাবনা জেলা ডিবি পুলিশ। এ ঘটনার মূল নায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে তারা। খুনি শরিফুল সম্পর্কে নিহত কিশোরী ঝামেলার প্রতিবেশী চাচা।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত শরীফুল পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে, যৌন লালসা চরিতার্থ করতে বাধা দেয়ার কারণে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকেই আসামি শরীফুল জয়নাল খাঁর মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)কে নৃশংসভাবে খুন করে। গ্রেফতারকৃত শরীফ ও নিহতরা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নিহত জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এ’ঘটনায় জামিলার বোন মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা করেন।
জানা গেছে, জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ কাজের তাগিদে প্রায়শই ঢাকার সাভারে তার বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। জামিলা তার দাদি সুফিয়া খাতুনের সঙ্গেই গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতো। ঘটনার সময়ও জামিলার বাবা বাড়িতে ছিলেন না।
পাবনা ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ট্রাকচালক শরিফুল ইসলাম শরীফ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দেয়। শরীফ ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।
শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে সে জামিলাদের বাড়িতে বাজার পৌঁছে দিতে যায়। সে সময় সুফিয়া খাতুন বাড়িতে না থাকার সুযোগে তার নাতনিকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। কিশোরী এতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন এবং তাকে চড় মারেন। সেখান থেকে শরীফ অপমানিত হয়ে ফিরে আসে।
এর কয়েকদিন পর, গত শুক্রবার (২৮ফেব্রুয়ারি) মধ্য রাতে শরীফ আবারও জামিলাদের বাড়িতে যান। এবার তিনি দাদি সুফিয়া খাতুন ও নাতনি জামিলার কাছে পূর্বের ঘটনার জন্য ক্ষমা চায়। তবে সুফিয়া খাতুন তাকে ক্ষমা না করে চিৎকার করেন। এতে শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শরীফ পাশে পড়ে থাকা একটি কাঠের বাটাম ও কুন্নি দিয়ে সুফিয়া খাতুনের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। বৃদ্ধা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে জামিলা চিৎকার করতে শুরু করে। এতে শরীফ তাকেও একই কুন্নি (রাজমস্ত্রিদের প্লাস্টার করার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম) দিয়ে জামিলার মাথায় ও কপালে আঘাত করে। জামিলা মাটিতে পড়ে গেলে শরীফ তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশের একটি গম ও সরিষাক্ষেতের দিকে নিয়ে যায়।
মাঝে পুকুরপাড়ে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এরপর গলা টিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ গম ও সরিষাক্ষেতের আইলের ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মৃতদেহ ও পরে গরম ও সরিষাক্ষেতের আইলের পাশে জামিলার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ দুটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পরে প্রাথমিকভাবে ঈশ্বরদী থানার ওসি মমিনুজ্জামান এবং ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
পাবনা জেলা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পাবনা ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। তারা স্থানীয় তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন হিসেবে শরীফুল ইসলামকে শনিবার রাত ১০টার দিকে আটক করে। তাকে ডিবি কার্যালয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে এবং হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।
এঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসি খুনির ফাঁসি দাবী করেছেন।