সকল জল্পনা কল্পনার অবসান, সোহাগ হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের
নেপথ্য কারণ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ
———–
এম এন সরদার।। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭৪ ঘন্টা পর ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করা হলো ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ হত্যাকান্ডের।
শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সকলেই একবাক্যে ধরেই নিয়েছিলেন যে, সোহাগের হত্যাকান্ডটি রাজনৈতিক। নানা মহলে এ নিয়ে রংচং মাখিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা হচ্ছিল। বিশেষ করে ঈশ্বরদী শহর থেকে প্রত্যান্ত গ্রাম পর্যন্ত হাটবাজার কিংবা মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে বিষয়টি ছিলো আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু। তবে সোহাগের পিতা মোঃ ইমানুল প্রামাণিক ওরফে এনামুল স্বশরীরে থানায় উপস্থিত হয়ে দায়ের করা মামলার এজাহারে যে বর্ণনা দিয়েছেন তা সকল মহলের ধারণা কিংবা অনুমান এবং আলোচনাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছে।
এজাহারে বর্ণিত বিষয় থেকে যা জানা গেছে তাহলো, ইমরান হোসেন সোহাগকে হত্যা করা হয়েছে মূলত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে। যারা এই হত্যাকান্ডের নামিক এবং অজ্ঞাত আসামী তাদের সাথে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিলো।
ঘটনার দিন নামিক আসামী গং (অনিবার্য কারণে আসামীদের নাম উল্লেখ করা সম্ভব হলো না) পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওইদিন উল্লেখিত সময়ে তারা ইমরান হোসেন সোহাগের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। প্রথমে গুলি এবং পরে মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করে বীরদর্পে স্থান ত্যাগ করে। এরপূর্বে ঘটনাস্থলে তারা ফাঁকা গুলি করে আতংক সৃষ্টি করলে উপস্থিত লোকজন আত্মরক্ষার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে সরে পড়ে। সেই সুযোগে হত্যাকারীরা সোহাগকে হত্যার মাধ্যমে পথের কাটা দূর ও তাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করে।
ঘটনার পর সাঁড়া গোপালপুর সহ ঈশ্বরদীর সর্বত্র চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সোহাগের হত্যাকারীদের গ্রেফতার সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করে শহরে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাওয়ের মতো ঘটনা ঘটে। বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর নির্দেশে যুবদল নেতা জাকির হোসেন জুয়েল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পৃথক পৃথক এসব বিক্ষোভ মিছিল ও ঘেরাও কর্মীসূচি পালন করা হয়।
এব্যাপারে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমারকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই মামলায় ৭ জন নামিক আসামী ও ৮-১০ জন অজ্ঞাতনামা আসামী রয়েছে।
আসামীদের গ্রেফতারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই মামলার বিষয়টি অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করে দ্রুত তদন্তের জন্য পাবনা জেলা ডিবি পুলিশকে দ্বায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।