বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার আসামী ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদককে নিয়ে বিএনপি নেতাদের ইফতার মাহফিল;
সদ্য গঠিত এডহক কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা হাবিবুর রহমান হাবিবের
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধিঃ পাবনার ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের নবগঠিত এডহক কমিটিকে অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক বলে দাবি করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় পৌর শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে আরআরপি ক্লাউড ভিউ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, মাসিক মিটিংয়ের নামে যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও অনিয়মতান্ত্রিক। এই কমিটির কোনো বৈধতা বা গ্রহণযোগ্যতা নেই।
তিনি আরও বলেন, প্রেসক্লাব একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এখানে কোনো দলীয় পরিচয় থাকার কথা নয়। কিন্তু অতীতে জোরপূর্বক কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের ঘটনা ঘটেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আগের কমিটিকেই বৈধ দাবি করে তিনি বলেন, আমি এখনো মনেকরি ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান শাহীন এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান। আগের কমিটিই নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা মাস্তানি করে আপনাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, তারা একটি দলের নামধারী ছিল এবং বর্তমানে বহিষ্কৃত। এসব বহিষ্কৃতরা ঈশ্বরদীতে আর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।
এদিকে, উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অন্যতম আসামী ও ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফি বিশ্বাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেন ও সহ-সভাপতি কে এম বাশার সহ আওয়ামীলীগের আরও অন্যান্যরা। এনিয়ে ঈশ্বরদীতে নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে অনেকেই বলেন, ৫ই আগস্ট ২০২৪ এর পরে আব্দুল বাতেনদের কমিটির বিরুদ্ধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবকে কুক্ষিগত করার অভিযোগ আনা হয় এবং ২০১৬ সালে নির্বাচিত সভাপতি আজিজুর রহমান শাহিন ও সাধারন সম্পাদক এস এম ফজলুর রমানের কমিটিকে পুনার্বহাল করা হয়। গত ৭ মার্চ ঈশ্বরদী প্রেস ক্লাবের মাসিক মিটিং-এ শাহিন-ফজলু কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং প্রেসক্লাবকে প্রাণবন্ত ও পুণনির্বাচন আয়োজনের জন্য এডহক কমিটি গঠন করা হয়।
এবিষয়ে সদ্য গঠিত ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের এডহক কমিটির আহবায়ক আব্দুল মান্নান টিপু বলেন- ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের মিলনস্থান, এটি ঈশ্বরদীর সাংবাদিকবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতেই চলা উচিৎ এবং চলবে। কারও প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব চলবে না। বিগত প্রায় ১ যুগের অধিক সময় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে কোন নতুন সাংবাদিক সদস্যপদ লাভ করতে পারে নাই। অথচ তরুণ অনেক মেধাবী সাংবাদিক এই সময়ের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। তারা তাদের মেধা ও যোগ্যতার বলে দেশের জাতীয় পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল গুলোতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ তাদের প্রেসক্লাবে কোন সদস্য পদ নেই। আমরা প্রেসক্লাবের অতিতের জীর্ণদশা থেকে মুক্ত করতে চাই। সকল সাংবাদিকদের অংশগ্রণের মাধ্যমে একটি প্রাণবন্ত প্রেসক্লাব উপহার দিতে চাই, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই। আর সেজন্যই আমরা এডহক কমিটি করেছি সদস্য সংগ্রহ ও নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য। আমরা একটু সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আপনাদের ভোটে যাকে নেতা হিসেবে নির্বাচিত করবেন তার হাতেই ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের দায়িত্ব তুলে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উক্ত ইফতার মাহফিলে সাপ্তাহিক ‘হ্যালো ঈশ্বরদী’র সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ওমর খান সুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার, প্রেসক্লাব সভাপতি আজিজুর রহমান শাহীন, বিএনপি নেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ ও আজমল হোসেন ডাবলুসহ অন্যান্যরা।
উক্ত ইফতার মাহফিল থেকে প্রেসক্লাবের ৩৮ জন স্থায়ী সদস্যের মধ্যে ২৩ জন নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল ওমর খান সুমার সদ্য গঠিত এডহক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রয়াত সাংবাদিকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।