কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে একটি মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দরবারটির ‘প্রধান পীর’ আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৬৫)গনপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও তিন জন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামীম বাবার দরবার শরিফে’ এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত শামিম ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে। এর আগে ২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শামীমকে একটি অনুষ্ঠানে কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা দরবারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে ঘটনাস্থলেই শামীমসহ কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামীমকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, ‘আহত অবস্থায় চার জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাঁকিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছি। সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।’