ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি।। ঈশ্বরদীতে গুলি ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে উপজেলা ছাত্রদল নেতা, জিয়া সাইবার ফোর্সের উপজেলা সদস্য সচিব এবং জুলাই বিপ্লবের সক্রিয় কর্মী ইমরান হোসেন সোহাগ (২৬) কে। সে ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল মন্নবীপাড়ার এনামুল হোসেনের ছেলে।
ঘটনাটি ঘটেছে ২ এপ্রিল’২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর স্কুলের সামনে।
জানা গেছে, উল্লেখিত সময়ে সোহাগ সহকর্মীদের নিয়ে সাঁড়া গোপালপুর স্কুলের সামনে রেললাইনের ওপরে বসে গল্প করার এক পর্যায়ে পাশের দোকান ঘরের পেছনে প্রসাব করতে যায়। এসময় ওঁৎ পেতে থাকা মুখে মাক্স ও হেলমেট পড়া স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্তরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে দূবৃর্ত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার সময় সোহাগের সহকর্মী অন্য একজনকে বেদম মারধর করলে সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তবে তার কোন পরিচয় এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে আকস্মিক গুলির শব্দে হতচকিত হয়ে সবাই দৌড়াদৌড়ি ও দোকানপাটের আড়ালে আত্মরক্ষা করতে থাকে। পরিবেশ একটু শীতল হলে সহকর্মীরা সোহাগকে খুঁজতে গিয়ে ঘটনাস্থলে তার বিকৃত লাশ দেখতে পায়।
বিষয়টি তাৎক্ষণিক জানাজানি হলে সোহাগের পরিবার পরিজন, আত্মীয়স্বজন এবং এলাকার শতশত নারী পুরুষ ঘটনাস্থলে সোহাগের লাশ দেখার জন্য ভীড় জমায়।
এদিকে সংবাদ পেয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সহ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন। তারা সংবাদ দিলে সিআইডি ও ডিবির স্পেশাল টিম এসে হত্যাকান্ডের মোটিভ এবং ঘটনাস্থলের সামগ্রিক চিত্রপট সহ হত্যার ধরণ সম্পর্কে তদন্ত শুরু করেন। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করার পর থানায় এনে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা মর্গে প্রেরণ করেন।
এ সংবাদ লিখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের হয়নি। তবে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানিয়েছেন।
এদিকে সোহাগ হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রেরকঃ এস এম রাজা
ঈশ্বরদী, পাবনা।