শ্বাশুড়ির ভাড়াটে খুনীদের হাতে অন্তঃস্বত্বা পুত্রবধূ খুন;
পিবিআই কর্তৃক রহস্য উদঘাটন; স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
ডেস্ক রিপোর্ট।।
চট্টগ্রামের ইপিজেডে শ্বাশুড়ির ভাড়াটে খুনীদের হাতে অন্তঃস্বত্বা পুত্রবধূ খুনের রহস্য উদঘাটন সহ ঘটনার জড়িত মূল আসামীকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো। গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম মোঃ আরিফ (৩৫)। গত ২৪/০৮/২০২৫ খ্রি: তারিখ চট্টগ্রামের বায়জিদ থানাধীন হাজীপাড়া বেলতল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ভিকটিম মাহাবুবা আক্তারের আপন খালাত ভাইয়ের সাথে ঘটনার ০৩ বছর পূর্বে তার বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে ভিকটিমকে তার স্বামী এবং শ্বাশুড়ি মিলে অত্যাচার ও নির্যাতন করত। গত ১৬/০৭/২০২১ ইং তারিখ বিকাল ০৩.৫২ ঘটিকার সময় ভিকটিমের এর খালাত বোন শান্তা ভিকটিমের ছোট বোন সাদিয়া আক্তারকে মোবাইল ফোনে জানায় যে, অজ্ঞাতনামা আসামীরা ভিকটিমের স্বামীর বাসায় ঢুকে ভিকটিমকে গলা টিপে বেহুশ করে গিয়েছে। সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের ছোট বোন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমকে মৃত অবস্থায় শয়ন কক্ষের ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখে। এই ঘটনায় ভিকটিমের বড় ভাই মোঃ মিসকাত বাদী হয়ে ভিকটিমের স্বামী, শ্বাশুড়ি ও বাসার ভাড়াটিয়া মোঃ আরিফ কে এজাহারনামীয় আসামী করে ইপিজেড থানার মামলা নং—১৪, তারিখ— ১৭/০৭/২০২১ ইং, ধারা—৩০২/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। থানা পুলিশ ০১ বছর ০৩ মাস মামলাটি তদন্ত করে চার্জশীট দাখিল করে। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং এসআই মো: মহসীন চৌধুরী, পিপিএম কে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল এর তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনায় এবং পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এর সার্বিক সহযোগিতায় এসআই মো: মহসীন চৌধুরী, পিপিএম এর নেতৃত্বে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর আভিযানিক টীম তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৪/০৮/২০২৫ খ্রি: তারিখ বিকাল অনুমান ০৩.৩০ টায় চট্টগ্রামের বায়জিদ থানাধীন হাজীপাড়া বেলতল এলাকা থেকে ঘটনার জড়িত মূল আসামী মোঃ আরিফ (৩৫) কে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী আরিফ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে। গত ২৫/০৮২০২৫ খ্রি: তারিখ তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে সে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করে।
পিবিআই এর তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, তথ্য-প্রযুক্তি ও সোর্সের দেওয়া তথ্য এবং বিজ্ঞ আদালতে আসামীর প্রদানকৃত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী পর্যালোচনায় জানা যায় যে, আসামী আরিফ ভিকটিমের শ্বাশুড়ী এবং স্বামীর পূর্ব পরিচিত এবং তাদের বাসার ভাড়াটিয়া। ভিকটিমের শ্বাশুড়ী নাজনিন বেগম পারিবারিক কলেহের জেরে দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভিকটিমকে হত্যা করার লক্ষ্যে আসামী আরিফের সাথে মৌখিক চুক্তি করে এবং পরিকল্পণা করে। পরিকল্পণা মোতাবেক আসামী আরিফ তার পূর্ব পরিচিত ০৩ (তিন) ব্যাক্তিকে ভাড়া করে ঘটনার দিন ১৬/০৭/২০২১ ইং তারিখ জুমার নামাজের সময় ভিকটিমের স্বামীর বাসায় ঢুকে এবং ভিকটিমকে নামাজরত অবস্থায় গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পলাতক অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।