ঈশ্বরদী সহ পাবনার সর্বত্র বিএনপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির অভিযোগ জামায়াতের জেলা আমীর ও নব নির্বাচিত এমপি অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের
———–
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি।। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এমপি ও পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও চাঁদাদাবি করছে বলে অভিযোগ করেছেন।
গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারী’২৬) দুপুরে ঈশ্বরদীস্থ ভেলুপাড়ার নিজস্ব কার্যালয়ে আহুত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একরাতে হাট, বাজার, ঘাট, টেম্পু, বাসস্ট্যান্ড, অফিস, আদালত সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জবরদখল, হত্যা, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ শুরু করে পুরোনো রাজনৈতিক বন্দবস্তে ফিরে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর থেকেই বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার পায়তারা শুরু করে।
তিনি বলেন, দেড় যুগ ফ্যাসিস্ট ক্ষমতাশীনদের দ্বারা বিএনপি নেতাকর্মীরাও আমাদের মতোই মজলুম ছিলো। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের ৫ আগস্টের পর সেই মজলুম জালিম রূপে আবির্ভূত হয়েছে।
অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল আরও অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের দিন সন্ধ্যা থেকেই বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জামায়াত ও ১১ দল সমর্থিত এমপি প্রার্থীর নেতাকর্মী ও ভোটারদের ওপর বর্বরোচিত হামলা নির্যাতন করে বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দলীয় অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ সহ অনেকের কাছে চাঁদাদাবি করে।
তারা যেই লাউ সেই কদু অর্থাৎ ফ্যাসিস্ট জালেমের রূপ ধারণ করেছে।
নব নির্বাচিত এমপি আরও বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেয়ায় ১১ দল ও জামায়াত নেতা কর্মীদের ওপর বিএনপি নেতা কর্মীদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হওয়া, মহিলা কর্মীদের বোরখা ধরে টানাটানি, ঈশ্বরদীর সাহাপুর ও সলিমপুরে দুই দোকান ভাংচুর, বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করা, পোলিং এজেন্টদের বাড়িতে হামলা করা, শিবির কর্মীদের মারধর ও বাড়ি ভাংচুর করার মতো ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়াও ঈশ্বরদী সহ পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাচন উত্তর সহিংসতায় ২০-৩০ জন জামায়াতের নেতাকর্মী আহত হয়েছে এবং তাদের বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়েছে। এধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সুষ্ঠধারার রাজনীতি ও সুন্দর দেশ গঠনে চরম অন্তরায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, দেশের জনগণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পছন্দ করে না। তারা দ্রুত এসবের অবসান চায়। প্রশাসন সহ বিএনপির হাইকমান্ডকে এধরণের এক তরফা সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, জেলা তালিমুল কোরআন সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম রাব্বানী খান জুবায়ের, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি হাফেজ আমিরুল ইসলাম, ঈশ্বরদী উপজেলা সেক্রেটারি মোঃ সাইদুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
প্রেরকঃ এস এম রাজা
ঈশ্বরদী, পাবনা।